সত্যজিৎ রায়: বাংলা সাহিত্যের এক জাদুকরের স্মরণে!

সত্যজিৎ রায় বাংলা সাহিত্যের এক জাদুকরের নাম। বর্ণালি এ জীবনে কী করেননি তিনি? একদিকে যেমন চলচ্চিত্র বানিয়েছেন সেই সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে শিশু কিশোরদের জন্যে বই লেখা। সত্যজিৎ রায়ের জন্ম কলকাতা শহরে সাহিত্য ও শিল্প সমাজে খ্যাতনামা রায় পরিবারে ২ মে, ১৯২১ সালে।

বাংলার চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় দিকপাল সত্যজিৎ রায়

পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কিশোরগঞ্জে (বর্তমানে বাংলাদেশ) কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি বহু সাহিত্য রচনা করেছেন এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো ফেলুদা, প্রফেসর শংকু। অসাধারণ এই চরিত্র দুটির সৃষ্টিকর্তা হিসেবে সত্যজিৎ রায় বিশেষভাবে পরিচিত।

সত্যজিৎ রায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য:

পথের পাঁচালী (১৯৫৫)
অপুর সংসার (১৯৫৯)
মহানগর (১৯৬৩)
চারুলতা (১৯৬৪)
সোনার কেল্লা (১৯৭৪)
হীরক রাজার দেশে (১৯৮০)

গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদাও বিশ্বখ্যাত

এছাড়াও ফেলুদার গোয়েন্দাকাহিনি নিয়েও তিনি আরো কিছু চলচ্চিত্র তৈরী করেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ রায় ছিলেন বহুমুখী এবং তাঁর কাজের পরিমাণ বিপুল।

পথের পাঁচালী সিনেমার একটি দৃশ্য

তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। পথের পাঁচালী, অপরাজিত (১৯৫৬) ও অপুর সংসার (১৯৫৯) – এই তিনটি একত্রে অপু ত্রয়ী নামে পরিচিত, এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী সত্যজিতের জীবনের শ্রেষ্ঠ কর্ম হিসেবে বহুল স্বীকৃত। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ভারত রত্ন সম্মাননা প্রদান করে।

বিশ্ব দরবারে বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন অধ্যায় সূচিত করলেও সাধারণ জীবন যাপনেই অভ্যস্ত ছিলেন চিরতরুণ এই গুণীনির্মাতা

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে বিখ্যাত হলো ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার (অস্কার), যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন। তিনি এছাড়াও ৩২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১টি গোল্ডেন লায়ন, ২টি সিলভার বিয়ার লাভ করেন। সত্যজিৎ ভারত রত্ন এবং পদ্মভূষণসহ সকল মর্যাদাপূর্ণ ভারতীয় পুরষ্কার লাভ করেছেন।

অপুর সংসার চলচ্চিত্রের সেটে সত্যজিৎ রায়, শর্মিলা ঠাকুর ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

২০০৪ সালে, বিবিসির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তালিকায় সত্যজিৎ ১৩তম স্থান লাভ করেছিলেন। হৃদযন্ত্রের জটিলতার কারণে ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল সত্যজিৎ মৃত্যুবরণ করেন। সবশেষে, একটা কথাই বলতে হয় “মহারাজা তোমারে সেলাম!”

বাংলা সাহিত্য ও শিল্পজগৎকে আরও বেশি বর্ণিল করে তুলেছিলেন সত্যজিৎ রায়

চলচ্চিত্রের অন্যতম দক্ষতা হলো মানুষের মন বোঝার এবং তার সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা এর রয়েছে।

সত্যজিৎ রায়

সিরিয়াল কিলার পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলার এই সূর্য সন্তানের প্রয়াণ স্মরণে জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নেটফ্লিক্সেস্ট্রেঞ্জার থিংস দেখেছেন তো? যদি কুইজ খেলতে ভালোবাসেন, তাহলে, এক্ষুণি ট্রাই করুন স্ট্রেঞ্জার থিংসের স্ট্রেঞ্জার কুইজ! এছাড়াও ডক্টর হু, লা কাসা ডি পাপেল, গেম অফ থ্রোন্স, ফ্রেন্ডস সহ আরও অনেক অনেক কুইজ তো আছেই!

You may also like...